বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ায়

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ। ছবি: পঙ্কজ সিকদার

কাজী জেবুন নাহার, ট্রাভেলটক

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া।  ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ এখানকার শেখ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘাতকের হাতে নিহত হওয়ার পরের দিন এখানেই  মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ বাঙ্গালিকে।

শোকের এই মাসে ঘুরে আসুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান আর সমাধিসৌধ থেকে।

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার এবং গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত টুঙ্গিপাড়া।  এখানেই বাইগার নদীর তীরে পারিবারিক কবরস্থান ও এর আশপাশের প্রায় ৩৮ একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ।

সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে একটি প্রদর্শনী গ্যালারি। বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন সময়ের বেশকিছু দুর্লভ ছবি আর শিল্পীর তুলিতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখা যাবে এ গ্যালারিতে। এখানে আছে একটি  সমৃদ্ধ পাঠাগারও। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বেশ কিছু বই ছাড়াও প্রায় ছয় হাজার বই রয়েছে এ পাঠাগারে। এ ছাড়া মুক্তিসংগ্রামের নানা পর্যায়ে দেশ ও বিদেশ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রও রয়েছে এখানে। বঙ্গবন্ধুকে যে কফিনে করে ঢাকা থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে নিয়ে আসা হয়েছিল, সে কফিনটিও এখানে সংরক্ষিত আছে যত্নের সাথে।

এছাড়া কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে গবেষণাকেন্দ্র, প্রদর্শনী কেন্দ্র, উন্মুক্ত মঞ্চ, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, বকুলতলা চত্বর ও স্যুভেনির কর্নার।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ। ছবি: পঙ্কজ সিকদার

সমাধিসৌধ
কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রধান আকর্ষণ বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ। প্রধান ফটক পেরিয়ে দুই পাশের উদ্যান পেরোনোর পরই বঙ্গবন্ধুর কবর। লাল ইট আর সাদা-কালো মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত এ সৌধ বেদনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই রয়েছে তাঁর বাবা ও মায়ের কবর। আর এই তিন কবর নিয়েই গড়ে উঠেছে গোলাকার গম্বুজবিশিষ্ট মূল সমাধিসৌধ। আলোছায়ার মায়াবী খেলা সেখানে খেলে যায় সবসময়।ওপরে থাকা কারুকাজ করা কাচের ভেতর দিয়েও আলো ছড়িয়ে পড়ে সমাধিতে। চারদিকে কালো, মাঝখানে সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবর বাঁধানো। ওপরের অংশ ফাঁকা। কবরের কাছে সর্বসাধারণের যাওয়ার অনুমতি থাকলেও ছবি তোলায় বারণ আছে।

শেখ রাসেল শিশুপার্ক
বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের পাশেই টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শেখ রাসেল শিশুপার্ক’। শিশুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকেও।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ ছাড়াও আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে টুঙ্গিপাড়ায়। কমপ্লেক্সের পাশেই আছে ১৮৫৪ সালে নির্মিত শেখবাড়ি জামে মসজিদ। এছাড়া রয়েছে বঙ্গবন্ধুর পৈত্রিক ভিটা, শৈশবের খেলার মাঠ, ব্ঙ্গবন্ধুর প্রিয় বালিশা আমগাছ, বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলায় গোসল করার হিজলতলা ঘাট, আর প্রাচীন বড় একটি পুকুর ইত্যাদি।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি। ছবি: পঙ্কজ সিকদার

সময় সূচী
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে ব্ঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ। আর এখানকার পাঠাগার খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি সড়ক পথে যাওয়া যায় টুঙ্গিপাড়া। ঢাকার গাবতলী থেকে গোল্ডেন লাইন, সেবা গ্রিন লাইন, কমফোর্ট লাইন নামের পরিবহন বাস প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর ছেড়ে যায় টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে। ভাড়া ৩০০-৭০০ টাকা। এ পথের বাসগুলো পাটুরিয়া ফেরি, ফরিদপুর হয়ে যাতায়াত করে, দূরত্ব ২৪০ কিলোমিটার।
গুলিস্তান থেকে টুঙ্গিপাড়া যায় টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, সেবা গ্রিন লাইন ও মধুমতী পরিবহনের বাস। এ পথের দূরত্ব ১৬০ কিলোমিটার, ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন
টুঙ্গিপাড়ায় আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল মধুমতি (০৬৬৫৫-৫৬৩৪, ০১৯৯১১৩৯৪২৯, ০১৯৯১১৩৯০৩১)। এখানে নন এসি কক্ষ ৮০০ এবং এসি কক্ষ ১৫০০ টাকা। এছাড়া গোপালগঞ্জ শহরেও কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। এসব হোটেল ৩০০-১৫০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *